মালদার কালিতলায় অবস্থিত বুড়াকালিমাতার মন্দির। ৪৫০ বছর ধরে এখানে পূজিত হয়ে আসছেন বুড়াকালি মা। মায়ের পুজো হয় বছরে দুই বার। জ্যোষ্ঠ মাসে অমব্যসায় ও কার্তিক মাসের অমব্যসায়। মায়ের পুজো দিতে দূরদূরান্ত থেকে ও বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসে বুড়াকালি মাতার মন্দিরে।
মন্দিরের পুরোহিত প্রসন ভট্টাচার্য বলেন, বংশ পরম্পরায় তাদের পরিবার মায়ের পুজো করে আসছেন। কোন ট্রাস্ট বা ক্লাবের সাহায্যে নিয়ে তাদের পুজো হয় না। তারা নিজেরাই পুজো করেন। পুজোর সময় প্রায় শতাধিক পাঠা বলি হয়। পুরো মালদা শহরের মধ্যে মায়ের এই মন্দিরে সব থেকে বেশী পাঠা বলি হয়। শহর ছারাও বিভিন্ন জেলার মানুষ এখানে আসেন পাঠা দিতে। পুজো দিন সারা রাত্রি পুজো হয় মায়ের মন্দিরে।
তিনি আরও বলেন, বহু প্রাচীন ও পুরনো তাদের মায়ের পুজো। তারা সাত পুরুষ ধরে বুড়াকালিমাতার পুজো করে আসছেন। এমনকি আগে ডাকাতের দল ডাকাতি করার আগে মায়ের পুজো দিয়ে ডাকাতি করতে যেত। বুড়ি মা কালিরা পাঁচ বোন। কাচাকালি, মশানকালি, তারাকালি, ডাকাতকালি। তাদের মধ্যে বুড়ি মা কালি সবার থেকে বড়। প্রথমে পুজো পর পাঁচ বোনকে এক জায়গায় নিয়ে এসে তারপর বিসর্জন করা হত। কিন্তু এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। ১৯৮৭ সালের পর থেকে মন্দিরে মায়ের পাথরের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত করা হয়। তারপর থেকেই বন্ধ হয়েছে এক সাথে বিসর্জন। তবে দূর দুরান্ত থেকে মানুষ এখন এসে মায়ের পুজো করেন এই মন্দিরে।